***
আমাদের ভিশন, মানবীয় গুণাবলি নিজেদের মাঝে প্রভাবিত করে
“সমাজ পরিবর্তনের পথে”****
সমাজ পরিবর্তনের পথে
*** আমাদের ভিশন, মানবীয় গুণাবলি নিজেদের মাঝে প্রভাবিত করে
“সমাজ পরিবর্তনের পথে”****
মানবীয় গুণাবলি তথা মানবিক আচরণ ও নৈতিক শিক্ষা না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না। তাই মানবীয় গুণাবলি নিয়ে আমরা “সমাজ পরিবর্তনের পথে”
উদ্দেশ্য
:
মানুষ ,মনুষ্যত্ব,নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ ,মানবতা, উদারতা,
সহমর্মিতা, সহনশীলতা, সহানুভূতিশীলতা, শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, বিনয়ী, মানবতা,
বিবেক, শ্রদ্ধা
মানুষ:
নিজের বিরুদ্ধেই প্রতিনিয়ত যুদ্ধে নামছে
মানুষ। অন্ন-বস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্ব বড়।
মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই বোধটি ধারণ করবেন না, তত দিন পর্যন্ত কেউ
মানবজীবনে সোনা ফলাতে পারবে না
মনুষ্যত্ব:
মনুষ্যত্ব মানুষের সেসব
গুণাবলি যা মানুষ ধারণ করে, লালন করে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সেগুলো
প্রয়োজনমতো কার্যকর করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- 'ভালো-মন্দের দ্বন্দ্বের মধ্য
থেকে মানুষ ভালোকে বেছে নেবে বিবেকের দ্বারা, প্রথার দ্বারা নয়- এই হচ্ছে
মনুষ্যত্ব। এছাড়া দান করা, দয়া দেখানো, ক্ষমাশীল হওয়া, সহযোগিতা,সত্য
প্রতিষ্ঠা করা, অহিংসা লালন করা, পরোপকার করা, দয়া-মায়া,ধৈর্য, ত্যাগ,
ক্ষমা, ভালো চিন্তা ও ভালো ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্বের
অধিকারী হয়। মানুষের ভেতর ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব থাকা স্বাভাবিক। তবে এই
দ্বন্দ্বের মধ্যেই লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, উগ্রতা, স্বার্থপরতা এবং
ক্রোধ প্রভৃতি পরিহার করে ভালোকে বেছে নেওয়াই মনুষ্যত্বের কাজ
নৈতিকতা:
"নৈতিকতা"
যার অর্থ হলো ভদ্রতা, চরিত্র, উত্তম আচরণ। এটি মূলত উদ্দেশ্য,সিদ্ধান্ত
এবং কর্মের মধ্যকার ভালো-খারাপ,উচিত-অনুচিত এর পার্থক্যকারী। উদাহরণ হলোঃ
"আমাদের উচিত অন্যের সাথে সেভাবেই আচরণ করা যেমনটা আমরা নিজেরা অন্যের থেকে
আশা করব।"
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি। এটি
মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি। একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও
রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুল সম্পর্কে সমাজের মানুষের যেই ধারনা
তাকেই মূলত মূল্যবোধ বলা হয়।
ভ্রাতৃত্ববোধ :
পরষ্পরের মধ্যে হৃদ্যতা
ও আন্তরিকতার সম্পর্কেকে ভ্রাতৃত্ব বলে। বা কোনো ব্যক্তির অপর ব্যক্তিকে
ভাইয়ের ন্যায় মনে করা, ভ্রাতৃসুলভ আচার আচরণ করাকে ভ্রাতৃত্ববোধ বলে।
মানবতা :
মানবতা
পশুত্বের বিপরীত। অন্যের সুখে, দুখে, আনন্দে, বেদনায় কারো মধ্যে একই
অনুভূতি কাজ করাকে মানবতা বলা হয়। বা মানুষের প্রতি মানুষের
দয়া,ভক্তি,শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে মানবতা বলে ।
সহমর্মিতা :
আসলে
সহমর্মিতা এমন একটি উপলব্ধি যার মাধ্যমে দু'টি মানুষ পরস্পরকে আরও গভীরভাবে
অনুভব করতে এবং একে-অন্যকে আরও ভালভাবে বুঝতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্কই নয় পারিবারিক সম্পর্ক, প্রতিবেশী এমনকি
সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহমর্মিতার গুরুত্ব অপরিসীম
সহনশীলতা:
সহনশীলতা একটি আলাদা বিশ্বাস, রীতিনীতি, বিভিন্ন ত্বকের রঙ, মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা বোঝায়।
সহানুভূতি :
সহানুভূতি
মানে সম অনুভূতি, কারো দুঃখ দুর্দশা আপনি নিজে অনুভব করে সমবেদনা প্রকাশ
করাই সহানুভূতি। ধরুন কারো বাবা মারা গেলো, এখন তার অনুভূতি অবশ্যই কষ্টের।
আপনি তাকে সান্তনা দিতে গেলে তার মতই আপনার মধ্যে কষ্টের অনুভূতি হলে,
এটাই সহানুভূতি।
শিষ্টাচার :
আমাদের সমাজে অনেকেই শিষ্টাচার,
আদব-কায়দা, ভদ্রতা নিয়ে ভাবেন, চর্চা করেন এবং ভাইবোন, সন্তান-সন্ততির
মধ্যে এগুলোর প্রয়োাগ ও প্রকাশ দেখতে চান। শিষ্টাচার অনুসরণ ছাড়া কেউ
পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে না। নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন কথা বলার
ধরন, চলাফেরা, আচরণ ছোটদের কাছে অনুকরণীয় হয়।
শৃঙ্খলা:
শৃঙ্খলা বলতে
আমরা বুঝি যে, কতকগুলি বাধার নিয়ম কানুন যথাযথভাবে পালন করা এবং একই সাথে
কাজের সময় সহযোগিতামূলক, সুস্থ ও স্বাভাবিক আচরণ করা যায় একটি প্রতিষ্ঠান
নির্ধারিত আচরণ সম্পর্কিত রীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে।
শব্দটির অর্থ-
মিনতি, নম্রতা, শিক্ষা। আর যিনি বিনয় প্রকাশ করেন তাকে বলা হয় বিনয়ী।
বিপরীত শব্দ দম্ভ ও দাম্ভিক।ব্যক্তিজীবনে যিনি যত বেশি বিনয়ী ও নম্র, তিনি
তত বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হন।
বিবেক :
বিবেকের কারণেই মানুষ ভাল-মন্দের বিচার করতে সক্ষম হয়, নতুবা মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো তফাৎ থাকতো না।
মানবতা:
মানুষ
একমাত্র তার বিবেক-বুদ্ধির জন্যই সৃষ্টির সেরা জীব। এই ক্ষমতাটি শুধু
মানুষেরই আছে। আর তাই সাধারণভাবে বলতে গেলে, মানুষের বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে
কোনো কিছুর বিচার করাকেই মানবতা বলে।
শ্রদ্ধা :
শ্রদ্ধা একজন ব্যক্তির জন্য সম্মান সূচক একটি ইতিবাচক অনুভূতি। সম্মানিত ব্যক্তির প্রকৃত গুণাবলী জন্য এটি একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি
*****
আমাদের
সবার উচিত বড়দের শ্রদ্ধা করা আর ছোটদের স্নেহ করা এবং ভালোবাসা।
অসহায়-অনাথদের ভালোবাসতে হবে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সাহায্যের
মানসিকতা থাকতে হবে ।
সদস্যের শপথ:
আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে এই উপরোক্ত
মানবীক গুনাবলি নিজের মাঝে প্রভাবিত করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের পথে নরাকো
সৈনিক হিসেবে কাজ করব। মানবীয় গুণাবলি এবং মানবিক আচরণ ও নৈতিক শিক্ষায়
সমাজকে এক অন্যান্য পর্যায় নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এবং“ সমাজ পরিবর্তনের
পথে” আলো পথের যাত্রী বলে নিজেকে উৎস্বর্গ করলাম।

0 Comments